এক কাক এবং বুযুর্গ ব্যক্তির ঘটনা।

প্রখ্যাত বুযুর্গ হযরত মালেক বিন দীনার রহ .বলেন – আমি একবার হজ্বের ।সফরে ছিলাম । একদিন আমি দেখতে পেলাম একটি কাক ঠোটে দুটি রুটি নিয়ে উড়ে যাচ্ছে , আমি কাকটির পিছনে ছুটলাম ।

কিছুদূর গিয়ে দেখলাম , এক স্থানে অতি জীর্ণ – শীর্ণ এক লােক হাত – পা বাঁধা অবস্থায় পড়ে আছে , আর সেই কাকটি নিজের ঠোটের সাহায্যে লােকটিকে রুটি খাইয়ে দিচ্ছে । রুটি খেয়ে লােকটি পরিতৃপ্ত হলে কাকটি উড়ে চলে গেল ।

তখন আমি লােকটির কাছে গিয়ে অবস্থা জানতে চাইলাম , সে বলল আমি হজ্বের উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলাম । পথে একদল ডাকাত আমার মালামাল লুট করে নিয়ে নেয় এবং আমার হাত পা বেঁধে এ অবস্থায় ফেলে চলে যায় ।

পাঁচ ছয়দিন এই অবস্থায় আমার অনাহারে কেটে যায় ।আমি আল্লাহ পাকের কাছে দোয়া করতে থাকি । ষষ্ঠ দিনে আমার দোয়া কবুল হয় । ফলে আল্লাহ তা’আলা আমার খাবারের জন্য এ কাকটিকে নির্ধারণ করলেন ।

মালেক বিন দীনার রহ .বললেন – লােকটির দূরবস্থা দেখে আমার দয়া হলাে আমি তার হাত – পায়ের বাধন খুলে দিলাম এবং তাকে আমার সফরের সঙ্গী করে নিলাম ।

কিছু পথ অতিক্রম করার পর আমরা উভয়ে পিপাসিত হয়ে পড়লাম ।অনেক অনুসন্ধান করে একটি পানির কূপ দেখতে পেলাম ।এক পাল হরিণী সেই কূপ থেকে পানি পান করছে ।আমাদের পায়ের শব্দ শুনে হরিণীগুলি পালিয়ে গেল ।

অতঃপর আমরা কূপের নিকট গিয়ে বালতি দ্বারা পানি উঠিয়ে তৃপ্তির সাথে পানি পান করলাম ।কিন্তু পানি পান করার পর একটি বিষয় আমাকে ভাবিয়ে তুলল ।

আমি মনে মনে আল্লাহকে বললাম হে প্রভূ !হরিণগুলিতাে রুকু , সেজদা করেনা ইবাদত বন্দেগী করেনা , অথচ তাদের জন্য পানি কূপের মুখ পর্যন্ত উঠে এলাে , ফলে তারা মুখ দিয়েই পানি পান করল , আর আমরা বালতি ছাড়া পানি পেলাম না।

এমতাবস্থায় অদৃশ্য থেকে আওয়াজ আসল , হে মালেক বিন দীনার , হরিণগুলােতাে আমারই উপর ভরসা করছে , [ কোন উছিলা তারা তালাশ করে নাই ।তাই আমি বালতি ছাড়াই পানি ওদের মুখের সামনে এনে দিয়েছি ।আর তুমি যেহেতু রশি বালতির উপর ভরসা করেছ , তাই তােমাকে সেভাবেই পানি সংগ্রহ করতে হয়েছে ।

হযরত মালেক বিন দীনার বলেন এ কথা শুনে আমার যেন হুশ চলে গেল , আমার ভিতর এক অদ্ভুদ অবস্থা সৃষ্টি হলাে ।সাথে সাথে আমি রশি ও বালতি ফেলে দিলাম ।সুবহানাল্লাহ !

প্রিয় পাঠক ! আমরা বুঝতে পারলাম যার তাওয়াক্কুল যে ধরনের তার সাথে আল্লাহ তা’আলার আচরণও সেই ধরনের ।এজন্য উছিলা ছাড়া তাওয়াক্কুল করা যাবে না এ কথা বলা ঠিক নয় । বরং এটি উঁচু পর্যায়ের তাওয়াক্কুল ।

শেয়ার করুন:⬇⬇⬇

2 Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.