কোরবানি সম্পর্কিত জরুরী মাসয়ালা এবং কোরবানির সঠিক নিয়ম কানুন।

কোরবানির মাংস বন্টন

কোরবানির ঈদ

কুরবানী করা অত্যন্ত নেকির কাজ। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন যে, কুরবানীর দিনে কুরবানী করা ব্যতীত আল্লাহর নিকট উত্তম কাজ আর কোন কিছুই হতে পারে না। কোরবানির প্রথম যে রক্তের ফোটা পড়ে, তা মাটিতে পড়ার আগেই উক্ত কোরবানি আল্লাহর নিকট কবুল হয়ে যায়। (সুবাহানাল্লাহ)।এই কারণেই খুশি মনে আল্লাহর ভক্তি ও আগ্রহের সাথে কুরবানী করা উচিত।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম আরো বলেছেনঃ কোরবানির পশুর প্রতিটি পশমের পরিবর্তে একটি করে নেকি পাওয়া যায় (সুবাহানাল্লাহ)। তবে এটা চিন্তার বিষয় যে একটি কোরবানি করে কত হাজার হাজার লাখ লাখ স‌ওয়াবের অধিকারী হওয়া যায়।

কোরবানির মাসয়ালা এবং নিয়ম কানুন।

নিচে কোরবানির মাসয়ালা এবং সঠিক নিয়ম কানুন উল্লেখ করা হয়েছে। এই কোরবানির মাসয়ালা গুলো হাকীমুল উম্মাত হযরত আশরাফ আলী থানভী (রহ) এর বেহেশতী জেওর নামক কিতাব হতে সংগ্রহ করা হয়েছে।

#কোরবানীর সঠিক নিয়ম কানুন

প্রথমে কোরবানির জন্য নির্ধারিত পশুকে কিবলামুখি করে শুইয়ে নিচের দোয়াটি পাঠ করতে হবে।

اني وجهت وجهي للذي فطر السموت والارض حنيفاوما انا من المشركين ان صلوتونسكي ومحياي ومماتي لله رب العلمين لاشريك له وبذ لك امرت و انا من المسلمين اللهم منك ولك •

উপরের দোয়াটি পাঠ করে বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবর বলে প‌শু যবাই করতে হবে।

কোরবানির পশু যবাই করার পর নিচের দোয়াটি পাঠ করবে

নিচে কোরবানি সম্পর্কিত সকল মাসয়ালা গুলো দেওয়া হলো:

আমরা অনেকেই অনেক সময় কোরবানি সম্পর্কিত মাসয়ালা নিয়ে অনেক সমস্যায় থাকি যেমন কার উপর কোরবানি ফরজ, কিভাবে কোরবানির পশু জবাই করতে হবে, কিভাবে কোরবানির গোশত বন্টন করতে হয়।এসব সমস্যার মধ্যে অনেক সময় ভুগতে থাকি। তাই আজকে আপনাদের জন্য নিয়ে আসলাম কোরবানির সকল মাসয়ালা উক্ত কোরবানির মাসয়ালা গুলো হাকীমুল উম্মাত হযরত আশরাফ আলী থানভী (রহ:) এর বেহেশতী জেওর নামক কিতাব থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।

১#কোরবানীর মাসয়ালা: যাদের উপর সৎকা ফিতর ওয়াজিব হয় তাদের উপর কুরবানী করা ওয়াজিব।

২#কোরবানির মাস‌আলা: মুসাফির ব্যক্তির জন্য কুরবানী ওয়াজিব না যদি সে ব্যক্তি মুসাফির অবস্থায় থাকে।

৩#কোরবানির মাস‌আলা: আরবি মাসের দশ‌ই জিলহজ হতে বারই জিলহজ পর্যন্ত মোট তিন দিন পর্যন্ত কোরবানি করার সময় ।এই তিনদিন থেকে যেকোনো দিন ইচ্ছা কোরবানি করতে পারবে, কিন্তু প্রথম দিন কুরবানী করা সর্বোত্তম।

৪#কোরবানির মাস‌আলা: কোরবানি ঈদের নামাজের আগে পশু জবাই করা অর্থাৎ কুরবানী করা জায়েয নেই। নামাজের পর কোরবানির পশু জবাই করতে হবে। তবে যে সকল জায়গায় জুমার নামাজ সঠিক হয় না সে সকল স্থানে 10 জিলহজ ফজরের নামাজের পর থেকে কুরবানী করার সঠিক হবে।

৫#কোরবানির মাস‌আলা: যদি কোন শহরবাসী নিজের কুরবানীর পশু পল্লী গ্রামে পাঠিয়ে দেয় এবং ওই পল্লীগ্রামে ওই কুরবানীর পশুর নামাজের পূর্বে জবাই করা হয় তাহলে জায়েয হবে।কুরবানীদাতা নিজে যদিও শহরে থাকে তার কুরবানীর পশু পল্লীতে পাঠিয়ে দিলে তারা ঈদের নামাযের পূর্বে কুরবানী করা জায়েয হয়ে যায়।

৬#কোরবানির মাস‌আলা: বারই জিলহজ্ব সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত কোরবানি করা জায়েজ। সূর্য অস্ত যাওয়ার পরে আর কুরবানী করা জায়েয নেই।

৭#কোরবানির মাস‌আলা: কোরবানির তিন দিনের মধ্যে যে দুটি রাত আসে সেদিন রাতেও কোরবানী করা জায়েয আছে কিন্তু তা ভালো নয়। কারণ এমনটা হতে পারে কোন একটি রোগ কাটা বাকি থাকতে পারে যার ফলে কোরবানির পশু জবাই করা সঠিক নাও হতে পারে।

৮#কোরবানির মাস‌আলা: কোন ব্যক্তি ধর সই 11 ই জিলহজ সফরে ছিল বা গরিব ছিল বাকপ্রবাস এই কোন স্থানে 15 দিন থাকার নিয়ত করিল এমতাবস্থায় তার উপর কুরবানী ওয়াজিব হইবে।

৯#কোরবানির মাস‌আলা: নিজের কুরবানী নিজেই করা মুস্তাহাব, অবশ্য নিজে জবেহ না করতে পারলে অন্যের দ্বারা কুরবানীর পশু জবাই করাইবে। কিন্তু নিজে সামনে থাকলে তা উত্তম।

১০#কোরবানির মাস‌আলা: কুরবানীর পশু জবাই করার সময় উচ্চারণ করেন নিয়ত এবং দোয়া পাঠ করা বাধ্যতামূলক না।শুধুমাত্র অন্তরে নিয়ত করে মুখে বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার বলে কোরবানির পশু জবাই করলে , কুরবানী হয়ে যাবে। কিন্তু উচ্চারণ করে পড়া ভালো।

১১#কোরবানির মাস‌আলা: কোরবানি শুধু নিজের পক্ষ হতে করা ওয়াজিব। সন্তানসন্ততির পক্ষ হতে নয় বরং নাবালক সন্তান মালদার হলেও তার পক্ষ থেকে কুরবানী করা ওয়াজিব হবে না।

১২#কোরবানির মাস‌আলা: ছাগল খাসি ভেড়া দুম্বা গরু মহিষ উট ইত্যাদি পশু দ্বারা কুরবানী করা সঠিক।অন্য কোন প্রাণী দ্বারা কুরবানী জায়েজ হবে না।

১৩#কোরবানির মাস‌আলা: গরু মহিষ এবং উট প্রভৃতি বড় শ্রেণীর যেকোনো একটি পশু দ্বারা সাত জনকে শরিক করা জায়েজ আছে। কিন্তু এর মধ্যে শর্ত এই যে একজনের অংশ যেন এক সপ্তমাংশের থেকে কম না হয় আর প্রত্যেকের নিয়ত যেন এই হয় কুরবানি অথবা আকিকা করা। কারণ নিয়ত যদি শুধু গোস্ত খাওয়ার জন্য হয় এবং সাত ভাগের মধ্যে কারো কোন এক ভাগ কম হয় তাহলে সকল অংশীদারি এদের মধ্য থেকে কারো কুরবানী সঠিক হবে না।

১৪#কোরবানির মাস‌আলা: যদি একটি গরুতে সাত জনের চেয়ে কম পাঁচ ছয় জন শরিক হয় এবং সবার অংশীদারিত্ব সমান হয় তবে সবার কুরবানী দুরস্ত হবে। আর যদি আট জন শরিক হয় তাহলে কারো কুরবানী সঠিক হবে না।

১৫#কোরবানির মাস‌আলা: গরু কিনার পূর্বে সাতজন শরিকদার হয়ে গেলে সকলে মিলে গরু ক্রয় করবে এবং তা উত্তম। আর যদি কেউ একা একটি গরু কুরবানীর জন্য খরিদ করে এবং মনে মনে এই ধারণা রাখে যে পরে আরো লোক শরিক করিয়া তাহাদের সাথে একসাথে কুরবানী করিব তাও জায়েজ আছে।কিন্তু যদি গরু কিনার সময় অন্যকে শরীফ করার নিয়ত না থাকে বরং একাকী কোরবানি করার মনস্থ করে থাকে পরে অন্যকে শরীক করিয়া করার মনস্থ করে। তা ভালো নয় ।এই অবস্থায় যদি ওই গরুর ক্রেতা গরীব হয় এবং তার উপর কুরবানী ওয়াজিব না হয় তবে পরে সে অন্য কাহাকেও শরিক করিতে পারিবে না বরং একাকী তাহাকে উহা কোরবানি করে দিতে হবে আর যদি ক্রেতা মাল দ্বারা হয় এবং তার উপর কুরবানী ওয়াজিব হয় তবে ইচ্ছা করলে পরে সে অন্য কাউকে শরিক করতে পারবে।

১৬#কোরবানির মাস‌আলা: কোরবানির পশু হারিয়ে গেলেও তার পরিবর্তে যদি আরেকটি পশু ক্রয় করা হয় তবে প্রথম যন্ত্রটি পাওয়া গেলে যদি ক্রেতা মালদার হয় তার উপর কুরবানী ওয়াজিব হয় তবে তাহার উপর একটি কুরবানীর পশু জবাই করা ওয়াজিব হবে।আর যদি ক্রেতা গরীব হয় এবং তার উপর কুরবানী ওয়াজিব নয় তবে তাহার দুটি কোরবানির পশু জবাই করা ওয়াজিব হবে।

১৭#কোরবানির মাস‌আলা: সাত জনের শরীরে যদি একটি গরু কুরবানী করে তবে তার গুস্ত আন্দাজের উপর ভাগ না করে বরং পাল্লায় মেপে সুষ্ঠুভাবে সমান সমান ভাবে ভাগ করে অন্যতায় ভাগের মধ্যে কিছু কম বেশি হয়ে গেলে শুধু হয়ে যাবে এবং গুনাহগার হতে হবে ।

১৮#কোরবানির মাস‌আলা: বকরি পূর্ণ এক বছরের কম হলে কুরবানী সঠিক হবে না। বকরির বয়স এক বছর পর আহলে জায়েজ হবে। গরু মহিষ দুই বছরের কম বয়সের হলে কোরবানির সঠিক হবে না। দুম্বা ও ভেড়ার হুকুম বকরির মতোই। কিন্তু ছয় মাসের বেশি বয়সের দুম্বার বাচ্চা যদি এরকম সুস্থ দেহের হয় যে এক বছরের দুম্বার মধ্যে ছাড়িয়া দিলে চিনা কঠিন হয়ে যায়।কিন্তু বকরির বাচ্চাদের মোটা তাজা হলেও এক বছর বয়স পূর্ণ না হলে কোরবানি জায়েজ হবে না।

১৯#কোরবানির মাস‌আলা: যে প্রাণীর দুটি চোখ বা একটি চোখ পুরো অন্ধ বা একটি চোখের তিন ভাগের এক ভাগ বা তারও বেশি দৃষ্টি শক্তি নষ্ট হয়ে গেছে, সেই প্রাণীর কুরবানী করার সঠিক হবে না।এমন ভাবে যে প্রাণের একটি কানের বা লেজ এর এক-তৃতীয়াংশ বা তার থেকে বেশি কেটে গিয়েছে এরকম প্রাণীর কুরবানী জায়েজ নয়।

২০#কোরবানির মাস‌আলা: যে প্রাণী এমন খোড়া যে, মাত্র তিন পায়ের উপর ভর দিয়ে চলে।চতুর্থ পা মাটি স্পর্শ করে না অথবা মাটিতে লাগে কিন্তু তার ওপর ভর দিতে পারে না। এরুপ প্রাণী কুরবানী করার জন্য জায়েজ নেই।আর যদি খোঁড়া পায়ের উপর ভর দিয়া খুরাইয়া চলতে পারে তবে সে প্রাণীর কুরবানী জায়েজ আছে।

২১#কোরবানির মাস‌আলা: কোরবানির পশুর যদি এমন শুকনো হয় যে তার হাড্ডির মধ্যকার মগজ শুকিয়ে গেছে তবে সে প্রাণীর কুরবানী জায়েয নেই।

২২#কোরবানির মাস‌আলা: যে প্রাণীর দাঁত নেই সে প্রাণীর কুরবানী জায়েজ নেই আর যদি দাঁত অর্ধেকের কম পড়ে থাকে তবে কুরবানী জায়েয আছে।

২৩#কোরবানির মাস‌আলা: যে প্রাণীর কান জন্ম থেকেই নাই তার কুরবানী করা জায়েয নেই। কান আছে কিন্তু ছোট তবে তা জায়েয আছে।

২৪#কোরবানির মাস‌আলা: যে প্রাণীর সিং কোনদিন উঠে নাই বা উঠিয়াছিল কিন্তু ভাঙ্গিয়া গিয়েছে। তার দ্বারা কুরবানী করা জায়েয আছে অবশ্য যদি একেবারে মূল হতে উঠে যায় তবে তার কুরবানী জায়েজ নেই।

২৫#কোরবানির মাস‌আলা: যে জন্তুকে খাসি বানাইয়া দেওয়া হয়েছে তার কুরবানী জায়েজ আছে। এরূপ যে জন্তুর গায়ে বা কাঁদে দাদ খাজ খুঁজলি হইয়াছে তার কুরবানী জায়েয আছে। অবশ্য যদি খুজলির কারনে জন্তু একেবারে কৃশ হইয়া থাকে তবে তার কুরবানী জায়েয হবে না।

২৬#কোরবানির মাস‌আলা: নিখুঁত প্রাণী কিনার পরে যদি এমন কোন দোষ হইয়া যায় যে কারণে কুরবানী জায়েয হবে না তবে ওই যন্তুটি রাখিয়া অন্য একটি জন্তু কিনে কুরবানী করতে হবে।

২৭#কোরবানির মাস‌আলা: কোরবানির গোশত নিজের ও নিজের পরিবারের সকলে খাবে । আত্মীয় স্বজনকে হাদিয়া দিবে গরীব মিসকিনদের কে এক তৃতীয়াংশ দান করবে।

২৮#কোরবানির মাস‌আলা: কুরবানীর চামড়া দান-খয়রাত করে দেবে। কিন্তু কুরবানীর চামড়া বিক্রয় করলে ঠিক সেই বিক্রয় এর দাম গরীবদেরকে দিতে হবে।চামড়া বিক্রির টাকা নিজে খরচ করে অন্য টাকা দান করলে আদায় হয়ে যাবে কিন্তু ইহা অন্যায় কাজ।

২৯#কোরবানির মাস‌আলা: কোরবানির চামড়ার মূল্য দারা মসজিদ মাদ্রাসা মেরামত করা বা অন্য কোন নেক কাজে ব্যয় করা জায়েজ নেই। বরং এই কোরবানির চামড়ার টাকা গরিবদেরকে দান করে দিতে হবে।

৩০#কোরবানির মাস‌আলা: যদি আমরা নিজের কাজে ব্যবহার করে যেমন তা দ্বারা চালুনি মস্ক ঢোল বাজানো ইত্যাদি বানায় তবে তা জায়েয আছে।

৩১#কোরবানির মাস‌আলা: কোরবানির পশু জবেহ কারি ও গোশত প্রস্তুতকারী এর পারিশ্রমিক পৃথকভাবে দিয়া দিবে কুরবানীর গোশত চামড়া ইত্যাদি দারা দিবে না।

৩২#কোরবানির মাস‌আলা: কোরবানির পশুর রশি,দড়ি ইত্যাদি গরীব মিসকিনদের কে দান করিয়া দিবে নিজের কোন কাজে লাগাবে না।

৩৩#কোরবানির মাস‌আলা: যার উপর কুরবানী ওয়াজিব নয় কিন্তু সে যদি কোন কুরবানী করার নিয়তে পশু কিনে তবে তার নিয়তের কারণে সেই কুরবানীর পশু জবাই করা তার উপর ওয়াজিব হয়ে যাবে।

৩৪#কোরবানির মাস‌আলা: কারো উপর কুরবানী ওয়াজিব ছিল কিন্তু কোরবানির তিনটি দিন চলে গেল কিন্তু সে কুরবানী করলো না তখন সে একটি বকরী বা ভেড়ার মূল্য দান করে দিবে।

৩৫#কোরবানির মাস‌আলা: কেউ যদি কুরবানী করার মান্নত করে এবং যে উদ্দেশ্যে মানত করেছিল তা আপুরা হইয়া থাকে তবে গরীব বা ধনী হোক তাহার উপর কুরবানী ওয়াজিব হবে। কিন্তু মানতের কুরবানীর গোশত মিসকিনদের হবে। নিজে খাইতে পারবে না যদি নিজে খায় বা কোন মালদার কে দেয় তবে যা খেয়েছে বা দিয়েছে সেই পরিমান পুনরায় গরীবদেরকে দিতে হবে।

৩৬#কোরবানির মাস‌আলা: যদি কেউ নিজের খুশিতে কোন মৃতের রুহে নেকি পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে কুরবানী করে তবে উহার গোস্ত নিজে খাওয়া বা যাকে ইচ্ছা দান করতে পারবে।

৩৭#কোরবানির মাস‌আলা: কিন্তু যদি কোন মৃত ব্যক্তির মৃত্যুর পূর্বে কোরবানির জন্য ওসীয়ত করিয়া থাকে তবে সেই গোশত পুরো টা গরিবদেরকে দান করা ওয়াজিব হবে।

৩৮#কোরবানির মাস‌আলা: কারো অনুপস্থিতিতে যদি অন্য কেউ তার পক্ষ থেকে তার অনুমতি ছাড়া কুরবানী করে তবে কুরবানী সঠিক হবে না।

৩৯#কোরবানির মাস‌আলা: যদি কোন গরু বকরি কারো নিকট ভাগী বা রাখালি দেওয়া হয় এবং তার নিকট হতে কেউ কি নিয়ে কুরবানী করে তবে তার কুরবানী সঠিক হবে না।ভাগীদার বা রাখালি কখনো প্রাণীর মালিক হয় না । মূল মালিক ঐ হল প্রকৃত মালিক অতএব মূল মালিকের নিকট হতে কি নিলে সহিহ হইত।

৪০#কোরবানির মাস‌আলা: যদি একটি গরু কয়েকজন মিলে কুরবানী করে এবং প্রত্যেকেই তা গরীব মিসকীনকে বিলিয়ে দেওয়ার ও পাকাইয়া খাইবার নিয়ত হয় তবে তাহা ও জায়েজ আছে অবশ্য যদি ভাগ করিতে হয় তবে দাঁড়িপাল্লা দিয়া সুষ্ঠুভাবে সমান সমান ভাগ করতে হবে।

৪১#কোরবানির মাস‌আলা: কুরবানীর চামড়ার পইসা পারিশ্রমিক হিসেবে দেওয়া জায়েজ নেই। কেননা চামড়ার টাকা পয়সা দান-খয়রাত করে দেওয়া আবশ্যক।

৪২#কোরবানির মাস‌আলা: কোরবানির গোশত কাফেরদেরকেও দান করা জায়েজ আছে তবে মজুরি হিসেবে দেওয়া জায়েজ নেই।

৪৩#কোরবানির মাস‌আলা: গর্ভবতী জন্তু কোরবানি করা জায়েজ আছে। পেটে বাচ্চা জীবিত থাকলে তাও যবেহ করতে হবে।

উপরে উল্লেখিত সকল কোরবানির মাসয়ালা গুলো হাকীমুল উম্মাত হযরত আশরাফ আলী থানভী রহ এর বেহেশতী জেওর নামক কিতাব থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।।

আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে উক্ত মাসয়ালা সমূহের উপর আমল করার তৌফিক দান করুন আমীন।

>আরো দেখুন: ঈদের শুভেচ্ছা মেসেজ

আমাদের ফেসবুক পেজ

#Raletad things: কোরবানির মাসয়ালা, কোরবানির ইতিহাস, কোরবানি ঈদ কবে,২০১৯ সালের কোরবানি ঈদ কবে, কোরবানি করার নিয়ত, কোরবানি করার নিয়ম কানুন, কুরবানী কার উপর ফরজ, আকীকার মাসয়ালা, কোরবানি ঈদের নামায।

শেয়ার করুন:⬇⬇⬇

4 Comments

Add a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.