প্রিয় নবী (সা:) এর ২৪ ঘন্টার রুটিন।

রাসুল ( সাঃ ) রাতের মধ্যভাগের পর শয্যা ত্যাগ করতেন । তারপর অন্যান্য দোয়া ছাড়াও নিম্নোক্ত দোয়া পাঠ করতেন । ” আলহামুদ হিল্লাহিল্লাবি আহইয়ানা বা ‘ দা মা আমাতানা ওয়া ইলাইহিন নুশুর , , অর্থাৎ সেই আল্লাহ তালার প্রশংসা যিনি আমাকে মৃত্যুর পর জীবিত করেছেন এবং তার দিকেই ফিরে যেতে হবে ।

প্রাকৃতিক প্রয়ােজন পূরণ : প্রাকৃতিক প্রয়ােজন পূরণ সময় তিনি জুতাে পরিধান করে মাথা ঢেকে বাঁ পা আগে দিয়ে প্রবেশ করতেন । প্রবেশের পূর্বে এই দোয়া পাঠ করতেন “ আলাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা । মিনাল খােছে ওয়াল খাবায়িছ ” প্রাকৃতিক প্রয়ােজন শেষ হওয়ার পর প্রথমে ডান পা বাইরে দিতেন এবং বলতেন আলহামদু ওয়া আফানী আযহাবা আনিল আযা ।

শেষ রাতের নামাজ: প্রাকৃতিক প্রয়ােজন পূরণের পর ওজুর জন্য বসতেন এবং এই দোয়া বারবার পাঠ । করতেন “ আল্লাহুম্মাগফেরলী যাবী ওয়া ওয়াসসিলী ফিদারী , ওয়া বারিকলী ফি রিজকী ” অর্থাৎ হে আল্লাহ পাক তুমি আমার গুনাহ মাফ করে দাও এবং আমার রিজিককে বরকত এবং আমার ঘরে প্রশস্ততা দাও । অতঃপর ওজু শেষ করে আকাশের দিকে তাকিয়ে কালিমায়ে শাহাদত পাঠ করতেন । এরপর তিনি তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করতেন । কখনাে ৪ , কখনাে ৬ কখনাে ৮ বা কখনাে ১২ রাকাত আদায় করতেন । অতঃপর বেলাল রাঃ ফজরের আযান দিলে দুই রাকাত সুন্নত , ঘরে আদায় করে , মসজিদে ফজরে নামাজ আদায় করতেন ।

বাদ নামাজে এশরাক: ফজরের নামাজ আদায় করে কিছুক্ষণ নিজ মুসাল্লায় বসে থেকে আল্লাহর যিকির এবং বিভিন্ন তাসবীহ পাঠ করতেন । বিভিন্ন ধরণের ওয়াজ – নসিহত ও কুরআন – হাদীসের বানী । শুনাতেন । ওহি নাযিল হয়ার পর সাহবীদের নিকটে হুকুম – আহকাম সম্পর্কে তিনি অবগত করিয়ে দিতেন । লােকদেরকে মূর্তি পূজা ছেড়ে আল্লাহর উপাসনা করার প্রতি দাওয়াত দিতেন এবং ব্যবসা বাণিজ্যে সততা অবলম্বনের প্রতি গুরুত্ত্বরােপ করতেন । সাহায্য প্রার্থীদের সাথে ব্যবহার ও তিনি সাহায্য প্রার্থীদের সাধ্যমত সাহায্য করতেন । সাহায্য প্রার্থী সুস্থ হলে তাকে কাজ । করার পরামর্শ দিতেন । প্রতিবেশী , এতিম , বিধবা দুস্থদের প্রতি খেয়াল রাখতেন । এবং তাদের সমস্যা সমাধানের জন্য সর্বাত্বক চেষ্টা করতেন ।

তিনি ঘর পরিষ্কার , পশুদের ঘরােয়া কাজকর্মে সহযােগীতা দান ঃ তিনি ঘরকন্নার কাজে খুশি মনে অংশ গ্রহণ করতেন । তিনি ঘর পরিস্কার খাবার প্রদান , নিজ হাতে বকরীর দুধ দোহন করতেন , কাপড় জুতাে সেলাই করা বাজার করা সহ ভূত্যদের সাথে আটা পিষতেন এবং যাবতীয় কাজে তিনি সহযােগীতা করতেন ।

রুচি সম্মত পােশাকঃ রাসুল সাঃ জামা এবং লুঙ্গি পরিধান করতেন । তাঁর জামার হাতা থাকত হাতের কচি পর্যন্ত । জামা পরিধানের সময় ডানদিক থেকে এবং খােলার সময় বাঁ দিক থেকে শুরু করতেন । তিনি জুম্মার দিন নতুন পােষাক পরিধান করতেন । তিনি সাদা পােষাক বেশী । পছন্দ করতেন । সাদা ছাড়াও অন্যান্য রঙের জামা পড়তেন । পাগড়ী পড়তেন এবং পাগড়ীর নীচে টুপি পড়তেন আবার কখনও শুধু টুপি পড়তেন । জুতাে , আংটি নখের যত্ন : প্রিয় নবীর ফিতা বাধা চপ্পল ব্যবহার করতেন । মাঝে মাঝে মােজা পরিধান করতেন । ওজুর সময় মােজার উপর মাসেহ করতেন । তার আংটি ছিল রূপার তৈরী । সেই আংটিতে আল্লাহ , রাসুল , মােহাম্মদ খােদাই করে লিখা ছিল । তিনি কখনাে ডান । হাতে বা বাম হাতের মধ্যমায় আংটি পড়তেন এবং এইটি দ্বারাই চিঠিতে সীল মােহর দেয়া হতাে । ১৫দিন পর পর নখ কাটতেন এবং পায়ের আংগুলের ক্ষেত্রে প্রথমে ডান পা । তারপর বাম পায়ের নখ কাটতেন । পানাহার পদ্ধতি ও রাসুল ( সাঃ ) ঠান্ডা মিঠা পানি পছন্দ করতেন । পেয়ালা গ্লাস , বরতন ডান হাতে ধরতেন । বসে “ বিস্‌মিল্লাহ ” বলে অল্প অল্প করে দু ‘ তিনবারে পানি পান করতেন । হাত । ধুয়ে মাটিতে বসে দস্তরখানায় খাবার খেতেন । এবং পূর্বে “ বিসমিল্লাহ ” বলে সামনের । দিক থেকে খাবার খেতেন । খাবার শেষ হলে আঙ্গুল চেটে খেতেন এবং কোন খাবার । পাত্রে অবশিষ্ট রাখতেন না । নিজ পরিবারের সদস্য সাহাবাদের সাথে একত্র আহার করতেন , নিজে এমনভাবে খেতেন যাতে সাথীদের লজ্জা পেতে না হয় । খাওয়া শেষ । হলে দোয়া পড়তেন । কারাে ঘরে দাওয়াতে গেলে তিনি মেজবানের জন্য বরকত ও । কল্যাণের দোয়া করতেন । তিনি ধনী গরীব সকলের দাওয়াত কবুল করতেন । তিনি কখনাে চেয়ারে বসে , হেলান দিয়ে খাবার খেতেন না । তিনি কখনাে পেট ভরে খেতেন না । খেজুর , রুটি , খুরমা , ছাতু ইত্যাদি নিত্যদিনের আহার্য ছিল । কাঁচা রসুন , পেয়াজ পছন্দ করতেন না , কেউ খেলে তাকে ভালাে করে মুখ পিরষ্কার করতে বলতেন । কেউ মৌসুমী ফল দিলে তিনি আল্লাহর প্রশংসা করতেন এবং সবচেম । কম বয়সীকে প্রথমে খেতে দিতেন । । খােশৰু ও তেল ব্যবহার ও রাসুল ( সাঃ ) রাইহান মেশক এবং উ ‘ দের খােশবু পছন্দ করতেন । গােসলের পর ও রাতে খােশবু ব্যবহার করতেন । মাথায় ও দাড়িতে তৈল ব্যবহার করে তা চিরুনী । করতেন । SEL

H চলা ফেরার সময় ৪ | প্রিয় নবী সাঃ সাহাবাদের পেছনে চলা ফেরা করতে পছন্দ করতেন । তিনি বলতেন । আমার পেছনে ফেরেস্তাদের আসতে দাও । কোথায় গমনকালে “ বিসমিল্লাহ ” বলে রওয়ানা । করতেন । উঁচু স্থানে আরােহনে “ আল্লাহু আকবার এবং নীচু স্থানে নামার সময় “ সােবহানাল্লাহ ” বলতেন । রাসুল ( সাঃ ) হাচি দেওয়ার সময় “ আল্ হামদুল্লিাহ ” বলতেন । এবং হাঁচির জবাব দিতেন । মজুলিশে অংশগ্রহণ ও প্রিয় নবী ( সাঃ ) কোন সমাবেশে অংশগ্রহণের সময় যেখানে স্থান পেতেন সেখানেই । বসতেন । অন্যদের অতিক্রম করে কখনাে সামনে যাওয়ার চেষ্টা করতেন না । তাঁর সামনে । কেউ উঠে দাঁড়ালে বিরক্তবােধ করতেন । | সাক্ষাতের সময় কেউ মুছাফাহা করলে তার হাত সরিয়ে না নেয়া পর্যন্ত রাসুল ( সাঃ ) । নিজের হাত জড়িয়ে রাখতেন । হাতে চুম্বন করতেন না । তিনি কারাে সাথে কথা বললে । তৃতীয় ব্যক্তির কথার প্রতি মানােযােগ দিতেন না । মজলিস শেষ হলে তিনি দোয়া পাঠ ) করে আল্লাহর প্রশংসা করতেন । ওয়াজ নসিহত । প্রিয় নবী ( সাঃ ) সদা সর্বদা মানুষের ওয়াজ নসিহত করতেন । পবিত্র কোরআন নাযিল হলে সাহাবীদের মাঝে মাসলা মাসায়িল বর্ণনা করে দিতেন সাহাবীদেরকে পরিবারের নিকট আল্লাহর হুকুম আহকাম , মাসলা – মাসায়েল বর্ণনার প্রতি নির্দেশ দিতেন । এবং সাহাবীরা তা পরিবারের সদস্যদের নিকটে বর্ণনা করতেন । রােগীদের সেবা যত্ন ও রাসুল ( সাঃ ) রােগীদের দেখা শুনার জন্য পায়ে হেঁটে বাড়ীতে যেতন । এবং অনুমতি ক্রমে প্রবেশ করে রােগীর সেবা যত্ন এবং কপালে হাত রাখতেন । এবং সান্তনা দিয়ে তার আরােগ্যের জন্য দোয়া করতেন । তিনি অমুসলিম রােগীদেরও সেবা শুশ্রুষা করতেন । তার জীবনে হাসির রসকিতা । রাসুল ( সাঃ ) মাঝে মাঝে বাস্তবতার নিরিখে কৌতুক করতেন । একদা তিনি জনৈক সাহাবীকে বললেন ওহে ভাই দুই কান ওয়ালা , তিনি জনৈক বৃদ্ধা মহিলাকে বললেন , কোন বৃদ্ধা মহিলা জান্নাতে যাবে না । একথা শুনে বৃদ্ধা কাঁদতে শুরু করল অতঃপর রাসুল বললেন , বৃদ্ধারা যুবতী হয়েই একমাত্র জান্নাতে যাবে । তিনি মুচকি হাসতেন , অট্টহাসতেন না । কাদার সময়ও তিনি শব্দ করে কাদতেন না । পরিছচ্ছন্নতা ও চিত্ত বিনােদন ঃ রাসুল সা . পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা কে ঈমানের অঙ্গ বলে আখ্যা দিয়েছেন । তিনি নিয়মিত গােসল করতেন এবং সাহাবীদের পরিচ্ছন্নতার প্রতি গুরুত্বারােপ করতেন । তিনি না পরিস্কার করতেন বাঁ হাতে , প্রাকৃতিক প্রয়ােজন পূরণের পর বামহাতে পানি খরচ করতেন , মাঝে মাঝে চিত্ত বিনােদনের জন্য বাগানে যেতেন এবং ঘােড়া , উট , গাঁধার উপর আরােহন করতেন । পশুদের প্রতি যত্ন নেওয়ার জন্য মালিকদের নির্দেশ দেন । শ্রমিককের মজুরী ঘাম শুকাবার পূর্বে পরিশােধের জন্য মালিকদের প্রতি নির্দেশ দেন ।

জানাজায় অংশ গ্রহণ ও রাসুল সাঃ কারাে জানাজায় অংশ গ্রহণ কারে তিনি বলতেন তার উপর ঋণ আs ! কিনা ? যদি ঋণ থাকে তবে সাহাবীদের বলতেন তােমরা নামাজ আদায় কর । আর যদি ঋণ পরিশােধের ব্যবস্থা হতাে তবে তিনি নিজেই নামাজ পড়াতেন । এবং কাঁধে লাশ নিয়ে | কবর দিয়ে তার জন্য মাগফিরাত কামনা করতেন । দিনের কর্মসূচীর সমাপ্তি ঃ । | জামাতে এশার নামাজ আদায় করার পর সাহাবীদের বিদায় দিয়ে নিজের ঘরে । যেতেন । রাসুল সাঃ এর বিছানায় থাকত সুরমাদানী , কাঁচি , মেসওয়াক , চিরুনী , তেলের বােতল , আয়না , এবং ছােট কাঠ যা দ্বারা তিনি গা চুলকাতেন । রাসুলের বিছানা । ” খেজুর পাতায় তৈরী , মাঝে মাঝে তা দুই ভাঁজ করে নেয়া হতই বিছানায় শুবার পূর্বে চোরে সুরমা ব্যবহার করতেন । ওজু করাবস্থায় ডান দিকে কাত হয়ে কিবলা মুখী হয়ে মা করতেন । সেই সময় তিনি এই দোয়া পাঠ করতেন সূরা এখলাছ , সূরা ফালাক , সুম । পড়ে দুই হাতে ফু দিয়ে সারা দেহে স্পর্শ করতেন । এই আমল তিনি তিনবার এবং এই দোয়া পড়তেন “ আল্লাহুমা বিইসমিকা আমুতু ওয়া আহইয়া ”

শেয়ার করুন:⬇⬇⬇

Leave a Reply

Your email address will not be published.